মেট্রোরেল প্রকল্প ও পদ্মা সেতু নিয়ে নিয়ে অধিকাংশ পরীক্ষায় প্রশ্ন এসে থাকে তাই সুন্দর করে সাজিয়ে দেওয়া হলো।
মেট্রোরেল প্রকল্প
২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে তার মধ্য মেট্রোরেল অন্যতম। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে গাড়ির চাকা ও অর্থনীতির চাকা একসাথে ঘুরবে। মেট্রোরেল প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য ২১ কিলোমিটার। সহযোগী সংস্থা জাইকা।প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২২ হাজার কোটি টাকা প্রায়। এরমধ্যে জায়কা অর্থায়ন করেছে ১৬৫৯৫ কোটি টাকা এবং সরকার করেছে ৫৩৯০ কোটি টাকা। সংযোগ স্থাপন করবে উত্তরা থেকে মিরপুর হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত।স্টেশন থাকবে ১৬ টি এবং প্রতিটি স্টেশন ১৮০ মিটার লম্বা হব। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ সহায় ২০২২ সালে এবং উদ্বোধন করা হয় ২৮ ডিসেম্বর ২০২২। উত্তরা থেকে মতিঝিল পৌঁছাতে সময় লাগবে প্রায় ৪০ মিনিট। যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয় ২৯ ডিসেম্বর, ২০২২।ঘন্টায় প্রায় ৬০ হাজার যাত্রী বহন করবে। একই সাথে ম্যাস র্যাপিট ট্রানজিট হিসেবে পরিচিত। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি কর্তৃক প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ঢাকা মেট্রো রেল --লাইন ১: দ্বিতীয় পর্যায়ে সম্পন্ন হতে যাওয়া এই লাইন প্রথমে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত লাইন স্থাপন করবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে তা গাজীপুর, কমলাপুরকে কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল অাবাসিক এলাকার সাথে যুক্ত করব এবং খিলক্ষেতকে পূর্বাচল আবাসিক এলাকার সাথে যুক্ত করব। লাইন ২: ৪০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের চতুর্থ মেট্রোরেল এমআরটি লাইন ২ নির্মিত হবে আশুলিয়া, সাভার, গাবতলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নগর ভবন এবং কমলাপুরকে যুক্ত করবে।লাইন ৩: ১৬ কিলোমিটার বিস্তার নিয়ে তৈরি হতে যাওয়া এমঅারটি লাইন ৪ কমলাপুর ও নারায়ণগঞ্জের মধ্যবর্তী রাস্তাকে বেষ্টন করবে। সমাপ্ত হবে ২০৩৫ সালে। লাইন ৪: ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই লাইনের যাত্রাবিরতি থাকবে মিরপু, গাবতলী, ধানমন্ডি বসুন্ধরা সিটি শপিং মল এবং হাতিরঝিল লিংক রোডে।
পদ্মা সেতু
"উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলছি দুর্বার এখন সময় বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার"
বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নত করতে বর্তমান সরকার বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্প গুলোকে মেগা প্রজেক্ট হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। পদ্মা বহুমুখী শেতু প্রকল্প তার মধ্যে অন্যতম ।পদ্মা সেতু একটি দ্বি-তল সেতু ।এটি পদ্মা নদীর ওপরে অবস্থিত যা লৌহজ, মুন্সীগঞ্জের সাথে শরীয়তপুর ও মাদারীপুরের সংযোগ স্থাপন করবে।এ সেতুর নকশা প্রণয়ন করেছে এইসিওএম।মোট দৌর্ঘ ৬.১৫ কিলোমিটার এবং প্রশ্ন ১৮.১০ মিটার । নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের ৭ই ডিসেম্বর। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান হলো - চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড। নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০২২ সালে। পিলার সংখ্যা ৪২ টি এবং স্প্যান ৪১ টি।পদ্মা সেতু অর্থনৈতীর দ্বার উন্মোচনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। যেসব জেলা সেতুর কারণে অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করবে সেগুলি হল খুলনা, যশো, বাগেরহা, সাতক্ষীরা, নড়াইল, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহা, মাগুরা, বরিশাল, পিরোজপুর, ভোলা,বরগুনা, ঝালকাঠি ও ঢাকা বিভাগের গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী। দক্ষিণ - পশ্চিম অঞ্চলে দারিদ্রসীমার নিচে থাকা জনসংখ্যা জাতীয় গড়ের তুলনায় ৫% বেশি।এই অঞ্চলটি দেশের অবশিষ্টাংশ থেকে পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ ছিল যোগাযোগ ব্যবস্থার ঘাটতি। এই সেতু হাওয়ার ফলে প্রতিবছর ১.৯% হারে দারিদ্র হ্রাস পাবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ১.২% হারে বৃদ্ধি পাবে।নির্মিত হওয়ার ৩১ বছরের মধ্যে জিডিপি ছয় হাজার মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে এবং ২০৩২ সালের পর বাৎসরিক রিটার্ন ৩০০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে। পদ্মা সেতু ও উভয় পাড়ের পর্যটন থেকে প্রতিবছর কয়েক 'শ কোটি টাকা আয় হবে। ৯ হাজার হেক্টর জমি নদী ভাঙ্গন থেকে রেহাই পাবে।টোল আদায় হবে বছরে প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ডলার। সুতরাং বলা যায় সেতুর উভয় পাশে ব্যাপক হারে শিল্পায়ন ও নগরায়ন ঘটবে এবং অর্থনীতির চাকা সচল হবে।প্রায় ২ কোটির অধিক বেকারের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
.png)
0 Comments